Do you have any queries ?

or Call us now at 9982-782-555

basket icon
Basket
(0 items)
back-arrow-image Search Health Packages, Tests & More

Language

এই জরুরি উচ্চ-ফাইবার খাবারগুলো দিয়ে সুস্থতা বাড়ান

Last Updated On: Feb 04 2026

ফাইবার কী, আর কত ধরনের ফাইবার আছে?

ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার নানা ধরনের হয়, আর প্রতিটিই শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। সাধারণভাবে ফাইবারকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়—দ্রবণীয় (Soluble) এবং অদ্রবণীয় (Insoluble) ফাইবার। এই দুই ধরনের ফাইবারের আওতায় এমন অনেক পুষ্টি উপাদান থাকে, যেগুলো আপনার শরীর সহজে কাজে লাগাতে পারে।

উচ্চ-ফাইবার খাবারের প্রধান কাজ হলো হজমের গতি ধীরে করা—ফলে আপনি যে খাবার খান, সেখান থেকে শরীর ধীরে ধীরে চিনি (শর্করা) শোষণ করে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দ্রবণীয় ফাইবার ফ্যাটি অ্যাসিডের সঙ্গে বেঁধে শরীর থেকে তা বের করে দিতে সাহায্য করে—ফলে খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।

অন্যদিকে, অদ্রবণীয় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে, অন্ত্র দিয়ে বর্জ্য সহজে বের করতে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কার্যকর। কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য হাই-ফাইবার ফুড চার্ট অনুসরণ করলেও উপকার মিলতে পারে।

আমরা খাবার এবং প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট থেকে ফাইবার পাই। ফাইবারসমৃদ্ধ ফল, বাদাম, সবজি, শস্য, ডাল ও বিনস—সবই স্বাস্থ্যকর। যদি আপনার ডায়েট থেকে পর্যাপ্ত ফাইবার না আসে, তাহলে নিউট্রিশনিস্ট প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট নিতে বলতে পারেন।

ফাইবারের উপকারিতা

ফাইবার খাওয়ার কিছু বড় উপকারিতা হলো—

  • মলত্যাগ স্বাভাবিক করে: ডায়েটারি ফাইবার মল নরম করে, মলের ওজন ও আকার বাড়ায়। ফলে মলত্যাগ সহজ হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। আবার পাতলা পায়খানা হলেও ফাইবার পানি শোষণ করে মলকে তুলনামূলক “বাল্কি” করে, এতে স্টুলের কনসিস্টেন্সি ভালো হতে পারে।
  • কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে: ফ্ল্যাক্সসিড, বিনস, ওট ব্র্যানের মতো খাবারে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া হাই-ফাইবার ডায়েট ইনফ্ল্যামেশন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।
  • রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে: ডায়াবেটিস থাকলে দ্রবণীয় ফাইবার বেশি খেলে হজম ধীর হয়, ফলে ব্লাড সুগার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে। কিছু ক্ষেত্রে দ্রবণীয় ফাইবার টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে: হাই-ফাইবার খাবার তুলনামূলক বেশি পেট ভরায়, তাই কম খেয়েও বেশি সময় পেট ভর্তি লাগে। ওজন কমাতে চাইলে ওজন কমানোর জন্য হাই-ফাইবার খাবারের তালিকা বানিয়ে চলতে পারেন।
  • দীর্ঘজীবনে সহায়ক হতে পারে: কিছু গবেষণা অনুযায়ী, বিশেষ করে শস্যজাত (cereal) ফাইবার বেশি খেলে হার্ট ডিজিজ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমতে পারে।

খাওয়ার জন্য উচ্চ-ফাইবার খাবার

ডাল (Lentils): লেগিউম জাতীয় খাবার ফাইবারে খুবই সমৃদ্ধ। ডালকে “পাওয়ারহাউস” বলা হয়, কারণ এতে প্রোটিন, অল্প ফ্যাট এবং ভালো পরিমাণ ফাইবার থাকে। নানা রঙের ডাল আছে—সবই খেতে পারেন।

স্প্লিট পিস (Split peas): এটি দ্রবণীয় ফাইবারে সমৃদ্ধ এবং ক্যালোরি কম। ফ্যাট-ফ্রি এই খাবারে ভিটামিন B এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল থাকে। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট হওয়ায় এটি শক্তি দেয়।

ব্ল্যাক বিনস (Black beans): বিনস সাধারণত ফাইবারে খুব বেশি—হাই-ফাইবার খাবারের তালিকায় এরা উপরের দিকেই থাকে। এতে প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পটাশিয়ামও থাকে, তাই স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু একটি অপশন।

পিন্টো বিনস (Pinto beans): গোটা খেতে পারেন বা ম্যাশ করেও খাওয়া যায়। কার্বোহাইড্রেট তুলনামূলক কম, ফাইবার ও প্রোটিন বেশি। শরীরের দরকারি ভিটামিন-মিনারেলও মেলে।

আর্টিচোক (Artichoke): আর্টিচোকে পুষ্টিগুণ প্রচুর, স্বাদটা একটু ‘earthy’। এতে ফাইবার, ফোলেট ও ভিটামিন K থাকে—লিভারের জন্যও উপকারী বলা হয়।

ছোলা (Chickpeas): এটি অনেকের পছন্দের একটি হাই-ফাইবার খাবার। প্রোটিন ও ফাইবার বেশি হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি রাখে।

চিয়া সিড (Chia seeds): এক চামচ চিয়া সিডে ফাইবার, ওমেগা-৩ ও প্রোটিন—সবই থাকে। সাধারণভাবে ২ টেবিল চামচ চিয়া সিডে প্রায় ১০ গ্রাম ফাইবার থাকতে পারে।

রাস্পবেরি (Raspberries): বেরি জাতীয় ফল ফাইবারের ভালো উৎস, আর রাস্পবেরি অনেক সময় তালিকার শীর্ষে থাকে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলও বেশি—কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

ব্ল্যাকবেরি (Blackberries): মিষ্টি ও রসালো এই ফল ডেজার্ট সাজাতেও ব্যবহার হয়। রাস্পবেরির মতো এটিও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবারে ভরপুর। ইনফ্ল্যামেশন কমাতে এবং ব্লাড সুগার ব্যালান্সে সাহায্য করতে পারে।

হোল হুইট পাস্তা (Whole wheat pasta): কার্বস নিয়ে দ্বিধা থাকলেও, হোল গ্রেইন পাস্তা ফাইবারসমৃদ্ধ। এতে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টও থাকতে পারে, যা কিছু রোগ থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই পাস্তা খেলে হোল হুইট বেছে নিন।

যব (Barley): যবের স্বাদ ও টেক্সচার দুটোই দারুণ। চিউই, হালকা নাটের মতো স্বাদ—এতে ফাইবার, মিনারেল ও ভিটামিন থাকে। পেট ভরায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।

নাশপাতি (Pears): শীতের এই ফল ফাইবারে সমৃদ্ধ। অনেক ফলের তুলনায় এতে দ্রবণীয় ফাইবার বেশি হতে পারে—হজম ধীর করে ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করতে পারে।

বাদাম (Almonds): আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো। সঙ্গে ফাইবারও থাকে—স্ন্যাক হিসেবেও খেতে পারেন।

ওটস (Oats): ব্রেকফাস্টে ওটস রাখুন—এতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের ফাইবারই আছে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্যকর সকালের খাবার। দিনে আধা কাপ ওটস অনেক ভিটামিন-মিনারেলেরও যোগান দিতে পারে।

ব্রকলি (Broccoli): ব্রকলিতেও দুই ধরনের ফাইবার থাকে। পাশাপাশি ভিটামিন C, B9 (ফোলেট) এবং পটাশিয়াম রয়েছে। কিছু গবেষণায় ব্রকলিকে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়কও বলা হয়।

কুইনোয়া (Quinoa): গ্লুটেন-ফ্রি এই শস্য ফাইবার ও প্রোটিনে সমৃদ্ধ, তাই অনেক সময় মিটের বিকল্প হিসেবেও ধরা হয়। এতে আয়রন থাকে (ব্রেন ডেভেলপমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ), এবং ভিটামিন B2 থাকে যা মাংসপেশির কোষকে শক্তি দিতে সাহায্য করে।

হাস অ্যাভোকাডো (Haas avocados): স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে ভরপুর। অন্যান্য ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারের মতোই এটি নানা ভাবে খাওয়া যায়—কন্ডিমেন্ট হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন।

আপেল (Apples): “দিনে একটি আপেল…”—এই প্রবাদটা এমনিই নয়। আপেল ফাইবারসমৃদ্ধ ফলের মধ্যে পড়ে এবং এতে পেকটিন থাকে, যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে।

সবুজ মটর (Green peas): আকারে ছোট হলেও পুষ্টিতে ভরপুর। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন B6, A এবং K থাকে। ফাইবার ও প্ল্যান্ট-বেসড প্রোটিনও বেশি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

কোন খাবারে ফাইবার সবচেয়ে বেশি?

ফল-সবজির বেশিরভাগই ফাইবারে সমৃদ্ধ। তবে ওটসকে ফাইবারের অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে ধরা হয়। সাধারণভাবে ১ কাপ ওটসে প্রায় ৭.৫ গ্রাম ফাইবার থাকতে পারে—যা দৈনিক ফাইবার চাহিদা পূরণে অনেকটা সাহায্য করে।

ফাইবারের জন্য সেরা ১০টি খাবার কী?

বিনস, ব্রকলি, বেরি, অ্যাভোকাডো, হোল গ্রেইন, পপকর্ন, আপেল, শুকনো ফল, বাদাম এবং ফ্ল্যাক্সসিড—এগুলো ফাইবারসমৃদ্ধ। দৈনিক ফাইবার পূরণে যেকোনো কিছু খাবারে যোগ করতে পারেন। এগুলো প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু—দু’জনের জন্যই ভালো।

আমি কীভাবে ফাইবার বাড়াতে পারি?

ব্রেকফাস্টে ফল, হাই-ফাইবার সবজি, ডাল/লেগিউম এবং হোল গ্রেইন রাখুন। লাঞ্চে ব্রাউন রাইস, হোল-হুইট পাস্তা বা যব ট্রাই করতে পারেন। আর কুকি/কেকের মতো কিছুর ইচ্ছা হলে সেখানে রান্না না করা ওটমিল যোগ করে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকরভাবে খেতে পারেন।

দিনে ৩০ গ্রাম ফাইবার কীভাবে পাব?

দিনে ৫ সার্ভিং ফল ও সবজি রাখুন। ৩টি প্রধান মিলের মধ্যে অন্তত ২ বার হোল গ্রেইন যোগ করুন। ফুড লেবেল দেখে ফাইবারের পরিমাণ বুঝতে পারবেন। সাধারণভাবে ১০০ গ্রামে কোনো খাবারে ৬ গ্রাম বা তার বেশি ফাইবার থাকলে সেটিকে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার ধরা হয়।

উপসংহার

এই লেখা থেকে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, দিনে কতটা ফাইবার খাওয়া দরকার এবং কেন তা জরুরি। হাই-ফাইবার খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য, খারাপ কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা ওঠানামা—এ ধরনের বহু সমস্যা দূরে রাখতে সাহায্য করে। সুস্থ থাকতে দিনে অন্তত ৩০ গ্রাম ফাইবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। ওজন কমাতে চাইলে ওজন কমানোর জন্য ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারও কাজে লাগতে পারে।

Metropolis Labs একটি বিশ্বস্ত ডায়াগনস্টিক ল্যাব, যেখানে আপনি কোলেস্টেরল, ব্লাড সুগার ইত্যাদির পরীক্ষা করাতে পারেন। কোলেস্টেরল সাধারণত লিপিড প্রোফাইলের মাধ্যমে এবং ব্লাড সুগার গ্লুকোজ স্ক্রিনিং টেস্টের মাধ্যমে দেখা হয়। আপনি চাইলে ল্যাবে গিয়ে বা হোম-কলেকশন সুবিধা নিয়েও এসব টেস্ট করাতে পারেন। সময়মতো টেস্ট করালে অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি আগেই বোঝা যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন এবং স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন।

Talk to our health advisor

Book Now

LEAVE A REPLY

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Popular Tests

Choose from our frequently booked blood tests

TruHealth Packages

View More

Choose from our wide range of TruHealth Package and Health Checkups

View More