Do you have any queries ?

or Call us now at 9982-782-555

basket icon
Basket
(0 items)
back-arrow-image Search Health Packages, Tests & More

Language

খুশকি প্রাকৃতিকভাবে দূর করার ঘরোয়া উপায়

Last Updated On: Feb 04 2026

মাথার ত্বক কেন চুলকাচ্ছেকারণ বুঝতে পারছেন না?

খুশকিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি মাথার ত্বকে “মাইক্রো-ইনফ্ল্যামেশন” (ক্ষুদ্র প্রদাহ) বোঝাতে পারে—যা অনেক সময় চোখে পড়ে না, কারণ স্পষ্ট লক্ষণ সবসময় থাকে না। মাথার ত্বক শুকিয়ে যাওয়া ও চুলকানি ছাড়াও খুশকির আরও কিছু কারণ হতে পারে:

  • দীর্ঘদিন মানসিক চাপ বা স্ট্রেস
  • পার্কিনসনস বা একজিমার মতো রোগ
  • রুক্ষভাবে বা অনিয়মিতভাবে চুল আঁচড়ানো
  • ভিটামিন B12-এর মতো পুষ্টির ঘাটতি
  • পরামর্শ ছাড়া বা অনিয়মিতভাবে হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার
  • দূষণ ও অতিরিক্ত তাপ

যদি আপনার স্ক্যাল্প প্রায়ই তেলতেলে লাগে বা চুল সব সময় গ্রিজি দেখায়, তাহলে খুশকি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবার অনেক সময় স্ক্যাল্প খুব শুকনো না হলেও তীব্র চুলকানি হতে পারে। অতিরিক্ত (এক্সট্রিম) অবস্থায় সময়ের সাথে খুশকি বেড়ে যেতে পারে—চুলকানি বেশি হয়, ফ্লেক বড় হতে থাকে, এমনকি মাথার ত্বকে বড় অংশ জুড়ে লালচে ভাব বা ফোলা দেখা দিতে পারে।

অনেকে সাময়িক আরাম পেতে একাধিক অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। কিন্তু জানেন কি—কিছু কার্যকর এবং সহজ ঘরোয়া উপায় রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত করলে আপনার হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্টে অযথা খরচও কমতে পারে?

খুশকি চুলকানিযুক্ত স্ক্যাল্পের কারণ

খুশকি ও মাথার ত্বকের চুলকানির মূল কারণ বুঝতে পারলে আপনি সঠিক খুশকির ঘরোয়া উপায় বেছে নিতে পারবেন। খুশকি হওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে—শুষ্ক ত্বক থেকে শুরু করে ফাঙ্গাল ইনফেকশন পর্যন্ত। চলুন বিস্তারিত দেখি।

শুষ্ক (ড্রাই) স্ক্যাল্প

খুশকির অন্যতম সাধারণ কারণ হলো শুষ্ক মাথার ত্বক। স্ক্যাল্পে আর্দ্রতা কমে গেলে ত্বক খসে পড়ে—যা অনেক সময় খুশকির মতো দেখায়। শীতকালে বা কম আর্দ্রতার পরিবেশে এটি বেশি হয়।

  • শুষ্ক আবহাওয়া বা কম আর্দ্রতা স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা কমিয়ে ফ্লেক তৈরি করতে পারে।
  • কিছু কড়া শ্যাম্পু/হেয়ার প্রোডাক্ট স্ক্যাল্প আরও শুকিয়ে দিয়ে জ্বালা বাড়াতে পারে।
  • খুব ঘন ঘন চুল ধোয়া স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে শুষ্কতা বাড়াতে পারে।

ফাঙ্গাল ইনফেকশন

Malassezia নামে ইস্ট-জাতীয় এক ধরনের ফাঙ্গাস খুশকির কারণ হতে পারে। এটি সাধারণত স্ক্যাল্পে স্বাভাবিকভাবেই থাকে, কিন্তু যখন অতিরিক্ত বেড়ে যায় তখন স্ক্যাল্পে জ্বালা, চুলকানি ও ফ্লেক তৈরি হয়।

  • Malassezia স্ক্যাল্পের তেল থেকে খাবার নিয়ে ত্বকের কোষ দ্রুত তৈরি করতে পারে, ফলে ফ্লেক বাড়ে।
  • এটি বাড়লে স্ক্যাল্পে চুলকানি, লালচে ভাব ও প্রদাহ হতে পারে।
  • তেলতেলে স্ক্যাল্প বা গ্রিজি চুলে ফাঙ্গাল খুশকি বেশি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রোডাক্ট বিল্ডআপ

অতিরিক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার বা ঠিকমতো ধুয়ে না ফেললে স্ক্যাল্পে জমে থাকতে পারে, যা জ্বালা ও ফ্লেকিং বাড়ায়—খুশকির মতো লক্ষণ তৈরি হয়।

  • জেল/স্প্রে/মুসের রেসিডিউ স্ক্যাল্পে জমে পোর ব্লক করে জ্বালা বাড়াতে পারে।
  • চুল যথেষ্ট না ধুলে তেল, ধুলো ও স্টাইলিং প্রোডাক্ট জমে খুশকির ঝুঁকি বাড়ে।
  • অনিয়মিত শ্যাম্পু করলে তেল ও প্রোডাক্ট জমে খুশকির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

ত্বকের কিছু সমস্যা

কিছু স্কিন কন্ডিশনও খুশকির মতো ফ্লেক তৈরি করতে পারে—যেমন সোরিয়াসিস, একজিমা ইত্যাদি।

  • সোরিয়াসিস স্ক্যাল্পে ঘন, খসখসে, স্কেলি প্যাচ তৈরি করে—খুশকির মতো দেখাতে পারে।
  • একজিমা ত্বককে শুষ্ক ও চুলকানিযুক্ত করে ফ্লেক তৈরি করতে পারে।
  • সেবোরিয়িক ডার্মাটাইটিস—এতে স্ক্যাল্প লালচে, প্রদাহযুক্ত ও ফ্লেকি হয়ে খুশকি দেখা যায়।

খাদ্যাভ্যাস জীবনযাপন

আপনার ডায়েট ও লাইফস্টাইল স্ক্যাল্প হেলথে বড় ভূমিকা রাখে। পুষ্টির অভাব, অতিরিক্ত স্ট্রেস ও ডিহাইড্রেশন খুশকি বাড়াতে পারে।

  • ভিটামিন B ও E-এর মতো জরুরি পুষ্টির অভাব স্ক্যাল্পকে দুর্বল করতে পারে।
  • স্ট্রেস স্ক্যাল্পের তেলের ভারসাম্য নষ্ট করে খুশকির ফ্লেয়ার-আপ ঘটাতে পারে।
  • ডিহাইড্রেশন স্ক্যাল্প শুষ্ক করে ফ্লেক বাড়াতে পারে—বিশেষ করে শীতে।

খুশকি চুলকানি কমাতে ১০টি ঘরোয়া উপায়

খুশকি ও চুলকানির জন্য সব সময় কড়া কেমিক্যালের ওপর নির্ভর করতে হয় না। কিছু খুশকির প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায় স্ক্যাল্প শান্ত করতে ও ফ্লেক কমাতে সাহায্য করে। এগুলো সহজ, প্রাকৃতিক এবং অনেকের জন্য কার্যকর।

চলুন ১০টি উপায় দেখি:

১. টি ট্রি অয়েল: টি ট্রি অয়েল অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণের জন্য খুশকিতে খুব জনপ্রিয়। এটি ফাঙ্গাল ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে এবং স্ক্যাল্পকে আরাম দেয়।
• আপনার শ্যাম্পুতে কয়েক ফোঁটা মেশাতে পারেন, বা ক্যারিয়ার অয়েলে (যেমন নারকেল তেল) মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন।
• ১০–১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

২. অ্যাপল সাইডার ভিনেগার: এটি স্ক্যাল্পের pH ব্যালান্স ঠিক রাখতে এবং ইস্টের বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে।
• সমপরিমাণ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান।
• ১০–১৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

৩. নারকেল তেল: নারকেল তেল দারুণ ময়েশ্চারাইজার—ড্রাই স্ক্যাল্প ও খুশকি কমাতে সাহায্য করে। এতে অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণও থাকতে পারে।
• সামান্য গরম করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন।
• ৩০ মিনিট বা রাতে রেখে সকালে শ্যাম্পু করুন।

৪. অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরা স্ক্যাল্পকে শান্ত করে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। চুলকানি ও জ্বালা কমাতে এটি উপকারী।
• তাজা অ্যালোভেরা জেল সরাসরি স্ক্যাল্পে লাগান।
• ১৫–২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

৫. লেবুর রস: লেবুর অম্লীয় গুণ স্ক্যাল্পের pH ব্যালান্স ঠিক করতে ও খুশকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
• তাজা লেবুর রস স্ক্যাল্পে লাগিয়ে হালকা ম্যাসাজ করুন।
• ৫–১০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

৬. বেকিং সোডা: এটি এক ধরনের এক্সফোলিয়েন্ট—মৃত ত্বক সরিয়ে ফ্লেক ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করে।
• চুল ভিজিয়ে অল্প বেকিং সোডা স্ক্যাল্পে ঘষুন।
• হালকা ম্যাসাজ করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

৭. দই মধু: দই স্ক্যাল্পকে শান্ত করে, আর মধু ত্বক আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। একসাথে ব্যবহার করলে স্ক্যাল্প হাইড্রেট হয়।
• ২ টেবিল চামচ মধু + ¼ কাপ প্লেইন দই মিশিয়ে নিন।
• স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ১৫–২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

৮. নিমের তেল: নিমের তেলের শক্তিশালী অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ ফাঙ্গাল খুশকিতে উপকারী হতে পারে।
• স্ক্যাল্পে নিমের তেল ম্যাসাজ করে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
• সপ্তাহে ২ বার করলে ভালো ফল মিলতে পারে।

৯. মেথি দানা: মেথি দানায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রোটিন থাকে—স্ক্যাল্পের জ্বালা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
• এক মুঠো মেথি দানা রাতভর ভিজিয়ে পেস্ট করুন।
• স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

১০. অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল শুষ্ক স্ক্যাল্পের জন্য প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার—ফ্লেক ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
• অল্প গরম করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন।
• ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করুন।

খুশকি স্থায়ীভাবে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?

খুশকি অনেক সময় বারবার ফিরে আসে, তবে নিয়মিত যত্ন নিলে দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। স্থায়ীভাবে খুশকি দূর করতে হলে ধারাবাহিকতা সবচেয়ে জরুরি—সঠিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং কার্যকর খুশকির ঘরোয়া উপায় একসাথে কাজে লাগাতে হবে।

  • মূল কারণ শনাক্ত করুন: ফাঙ্গাল ইনফেকশন, ড্রাই স্ক্যাল্প নাকি কোনো স্কিন কন্ডিশন—কারণ বুঝে ব্যবস্থা নিন।
  • সঠিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন: কেটোকোনাজল, জিঙ্ক পাইরিথিয়ন বা সেলেনিয়াম সালফাইডযুক্ত মাইল্ড অ্যান্টিফাঙ্গাল শ্যাম্পু খুশকিতে সাহায্য করতে পারে।
  • স্ক্যাল্প হাইড্রেট পুষ্ট রাখুন: তেল বা ময়েশ্চারাইজিং ট্রিটমেন্ট দিয়ে শুষ্কতা কমান।
  • স্ট্রেস কমান: যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা ডিপ ব্রিদিং স্ট্রেস-জনিত ফ্লেয়ার-আপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

খুশকি চুলকানি প্রতিরোধের টিপস

খুশকি দূরে রাখতে এবং স্ক্যাল্প সুস্থ রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস খুব কাজে দেয়।

  • নিয়মিত চুল ধুতে থাকুন: সপ্তাহে ২–৩ বার জেন্টল, ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
  • চুলকানো এড়িয়ে চলুন: স্ক্র্যাচ করলে জ্বালা বাড়ে এবং চুল পড়াও বাড়তে পারে।
  • ন্যাচারাল প্রোডাক্ট বেছে নিন: কড়া কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু/কন্ডিশনার এড়িয়ে চলুন।
  • পানি বেশি পান করুন: হাইড্রেটেড থাকলে স্ক্যাল্পও কম শুকায়।
  • স্ট্রেস কমান: নিয়মিত রিল্যাক্সেশন প্র্যাকটিস করুন।

এই টিপসগুলো মেনে চললে এবং খুশকি চুলকানির ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে খুশকি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যেতে পারে।

উপসংহার

খুশকি ও মাথার ত্বকের চুলকানি খুব সাধারণ সমস্যা, তবে সঠিক প্রাকৃতিক যত্ন নিলে আরাম পাওয়া সম্ভব। নারকেল তেল, টি ট্রি অয়েল, অ্যালোভেরা—এ ধরনের সহজ খুশকির ঘরোয়া উপায় স্ক্যাল্পের জ্বালা কমাতে এবং ফ্লেক নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত অভ্যাস করলে স্ক্যাল্পের সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।

আপনি যদি আরও ব্যক্তিগতকৃত সমাধান বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য ইনসাইট চান, তাহলে Metropolis Healthcare থেকে ডায়াগনস্টিক সার্ভিস নিতে পারেন। তাদের নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ আপনার স্বাস্থ্য সচেতনতায় সহায়তা করবে।

FAQs

লেবু কি খুশকি দূর করতে পারে?

লেবুর প্রাকৃতিক অম্লীয় গুণ স্ক্যাল্পের pH ব্যালান্স রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে খুশকি কমাতে কার্যকর হতে পারে।

খুশকি কি চুল পড়ার কারণ হয়?

খুশকি সরাসরি চুল পড়ার কারণ নাও হতে পারে, কিন্তু বেশি স্ক্র্যাচ করলে হেয়ার ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া সেবোরিয়িক ডার্মাটাইটিসের মতো প্রদাহজনিত সমস্যায় সাময়িক চুল ঝরা বাড়তে পারে।

খুশকির জন্য কোন ফল ভালো?

ভিটামিনসমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা, লেবু, অ্যাভোকাডো স্ক্যাল্পকে পুষ্ট করতে এবং খুশকির উপসর্গ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

খুশকি কি চুলের জন্য ক্ষতিকর?

খুশকি স্ক্যাল্পে জ্বালা ও চুলকানি তৈরি করে, যা সময়ের সাথে চুল ভাঙা বা পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে—যদি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ না করা হয়।

খুশকির জন্য কোন তেল সবচেয়ে ভালো?

নারকেল তেল, টি ট্রি অয়েল ও অলিভ অয়েল খুশকিতে উপকারী—কারণ এগুলো স্ক্যাল্পকে শান্ত করে এবং কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিফাঙ্গাল সহায়তা দিতে পারে। তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করার সময় অবশ্যই ডাইলিউট করে ব্যবহার করুন, না হলে জ্বালা হতে পারে।

Talk to our health advisor

Book Now

LEAVE A REPLY

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Popular Tests

Choose from our frequently booked blood tests

TruHealth Packages

View More

Choose from our wide range of TruHealth Package and Health Checkups

View More